পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন – Panchagarh Railway Station

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড়
(পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন)

পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়।

পঞ্চগড় সদরে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন বা পঞ্চগড় স্টেশন। এটি উত্তরবঙ্গের সর্বশেষ রেলওয়ে স্টেশন। পঞ্চগড় স্টেশন-এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬৭ সাল। ২০১৯ সালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড় রাখা হয়।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন (বী.মু.সি.ই.) থেকে বর্তমানে (২০২৪) ৬ টি ট্রেন চলাচল করে। পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযান, পঞ্চগড় এক্সপ্রেসএকতা এক্সপ্রেস চলাচল করছে। পঞ্চগড়-রাজশাহী রেলপথে চলাচল করছে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। আর পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারে চলাচল করে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস। অর্থাৎ পঞ্চগড় থেকে পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। এর বাইরে কাঞ্চন কমিউটার নামে একটি মেইল ট্রেন পঞ্চগড় থেকে পার্বতীপুরে চালু রয়েছে।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের মূল ভবন

ব্রিটিশ সময়কালে অত্র এলাকায় রুহিয়া পর্যন্ত (পার্বতীপুর-রুহিয়া রুটে) রেল চলাচল করতো। পাকিস্তান আমলে ১৯৬৭ সালে রুহিয়া থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ২৩.৬ কিমি রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে পঞ্চগড় স্টেশন-এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রায় ৪ দশক রুহিয়া-পঞ্চগড় রেললাইনটি সংস্কারহীন থাকার পর ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চগড় থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত রেল আধুনিকায়নের ঘোষণা দেন। নুরুল ইসলাম সুজন (এমপি) ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে রেলমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে পঞ্চগড় তথা সমগ্র বাংলাদেশের রেল যোগাযোগের ব্যাপক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর-পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৫০ কিমি রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রুপান্তর করা হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের আওতায় এই উন্নয়ন কাজ শেষ হয়।

স্টেশন প্লাটফর্ম

২০১৭ সাল অবধি আন্ত:নগর ট্রেন দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত চলাচল করতো, অর্থাৎ পঞ্চগড় থেকে দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেসের টিকেট কাটা যেতো। আর সেইসব যাত্রীদের একটি ট্রেনে করে দিনাজপুর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হতো। সেখান থেকে যাত্রীগণ দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেসে করে গন্তব্যে পৌঁছাতো। ২০১৮ সালের নভেম্বরে উভয় ট্রেনদুটি পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করে।

২৫ মে ২০১৯ সালে বহুল প্রতীক্ষিত পঞ্চগড় টু ঢাকা বিরতিহীন আন্তঃনগর রেল পঞ্চগড় এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। একই সাথে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের নতুন নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড় ঘোষণা করা হয়। স্টেশন-এর নতুন নামফলক উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

২০২৩ সালে নির্মিত পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের অত্যাধুনিক টয়লেট

২০২০ সালের অক্টোবরে রাজশাহী ও পঞ্চগড়ের মধ্যে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস নামে একটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চলাচল শুরু করে। ২০২২ সালের জুনে বগুড়ার দিনাজপুর ও শান্তাহারের মধ্যে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন দোলনচাপা এক্সপ্রেসকে পঞ্চগড় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমানে (২০২৪) বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্যাপক উন্নয়নের আওতায় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

২০১৯ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন উদ্বোধনের পর থেকে আধুনিক ও সুসজ্জিত স্টেশনটি স্থানীয় দর্শনার্থী এবং যাত্রীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফুট উচ্চতা ও ৫৬ ফুট চওড়া দৃষ্টিনন্দন গেট, ৭৫ হাজার বর্গফুটের কার পার্কিং এরিয়া এবং ১২টি ল্যাম্প-পোস্ট সহ ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রস্থ এপ্রোচ রোড এবং অত্যাধুনিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। ট্রেন আর প্ল্যাটফর্ম দেখার পাশাপাশি বিনোদনপ্রেমীদের কাছে কদর বেড়েছে স্টেশন এলাকায় নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন গেট, এপ্রোচ রোড এবং কার পার্কিং এরিয়ার। স্টেশনে দিনভর জনসমাগম না থাকলেও সন্ধ্যা হলেই ভিড় বেড়ে যায়। রেলস্টেশন এলাকায় গড়ে উঠেছে চিকেন ফ্রাই, চটপটি, ফুচকা, চা-কফি সহ নানা রকম ফাস্টফুডের দোকান।

পঞ্চগড় স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনসমূহঃ
(জানুয়ারী ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে)

ট্রেন নাম্বার ছাড়ার সময় বন্ধের দিন
দ্রুতযান এক্সপ্রেস ৭৫৮ সকাল ৮ঃ১০ বন্ধ নাই, সপ্তাহে প্রতিদিন চলে
পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ৭৯৪ দুপুর ১২ঃ৩০ বন্ধ নাই, সপ্তাহে প্রতিদিন চলে
একতা এক্সপ্রেস ৭০৫ রাত ৯ঃ১০ বন্ধ নাই, সপ্তাহে প্রতিদিন চলে
বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ৮০৪ সকাল ৮ঃ৩০ পঞ্চগড় থেকে শনিবার
দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ৭৬৮ সকাল ৬ঃ০০ বন্ধ নাই, সপ্তাহে প্রতিদিন চলে
কাঞ্চন কমিউটার ৪২ বিকাল ৩ঃ১৫ বন্ধ নাই, সপ্তাহে প্রতিদিন চলে

 

রেলযোগে পঞ্চগড় থেকে যেসব স্থান/স্টেশনে যেতে পারবেনঃ
(জানুয়ারী ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে)

দ্রুতযান একতা
এক্সপ্রেস
পঞ্চগড়
এক্সপ্রেস
বাংলাবান্ধা
এক্সপ্রেস
দোলনচাঁপা
এক্সপ্রেস
কাঞ্চন
কমিউটার
বাংলাবান্ধা
তিরনইহাট
তেঁতুলিয়া
ভজনপুর
জগদল
পঞ্চগড়
নয়নিবুরুজ
কিসমত
রুহিয়া
আখানগর
ঠাকুরগাঁও রোড
শিবগঞ্জ
ভোমরাদহ
পীরগঞ্জ
সুলতানপুর স্কুল
সেতাবগঞ্জ
মোল্লাপাড়া
মঙ্গলপুর
বাজনাহার
কাঞ্চন
দিনাজপুর
কাউগাঁ
চিরিরবন্দর
মন্মথপুর
পার্বতীপুর
ফুলবাড়ী
বিরামপুর
পাঁচবিবি
খোলাহাটি
বদরগঞ্জ
রংপুর
কাউনিয়া
পীরগাছা
বামনডাঙ্গা
গাইবান্ধা
বোনারপাড়া
জয়পুরহাট
সোনাতলা
বগুড়া
তালোড়া
আক্কেলপুর
সান্তাহার
আহসানগঞ্জ
মাধনগর
নাটোর
আব্দুলপুর
রাজশাহী
ইশ্বরদী বাইপাস
উল্লাপাড়া
শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন
চাটমোহর
জামতৈল
যমুনা ব্রিজ (পশ্চিম)
যমুনা ব্রিজ (পূর্ব)
টাঙ্গাইল
জয়দেবপুর
ঢাকা (বিমানবন্দর স্টেশন)
ঢাকা (কমলাপুর স্টেশন)

 

একজন ব্যক্তির নামে একটি ট্রেন স্টেশনের নামকরণ বাংলাদেশে খুবই বিরল এবং সম্মানজনক। পঞ্চগড় স্টেশন ছাড়া বাংলাদেশে এ ধরনের নামকরণের আর মাত্র ২টি উদাহরণ রয়েছে। একটি সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন ও অন্যটি জামালপুরের অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান স্টেশন।

পঞ্চগড়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান, উত্তরবঙ্গের বাঘ নামে পরিচিত এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে সম্মান জানিয়ে পঞ্চগড় রেলস্টেশন-এর নামকরণ করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলস্টেশন। এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। পঞ্চগড়ের বর্ষীয়ান এই নেতা ছিলেন পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রাণপুরুষ, মহান মুক্তিযুদ্ধের দক্ষ সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের ৬/ক সাব সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, পঞ্চগড়ের ৪ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম স্মরণে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়াম, সাবেক পুঠিমারী ছিটমহলের নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম নগর ও নবাবগঞ্জ বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে।

Travel Tips | Accommodation | Tourist Spots

 


তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ রেলওয়ে
ছবিঃ সুমাইয়া তাবাস্সুম
Last updated: 31 December 2023

Share:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn