খান বাহাদুর আব্দুস সাত্তার – Mirza Abdus Sattar

পঞ্চগড় জেলার স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব মির্জা আব্দুস সাত্তার। বহু জনসেবামূলক কাজের জন্য সমাদৃত তুখোড় মেধাবী মির্জা আব্দুস সাত্তার খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

মির্জা আব্দুস সাত্তার ১৮৮৪ সালে তৎকালীন দিনাজপুর জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোঃ সোনাউল্লাহ তালুকদার ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের নিয়োজিত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী, উনার ওই সময় আইন স্বীকৃত সিলগাল ছিল। জনাব তালুকদার পারিবারিক ভাবে ব্যবসায়ী হলেও, পরবর্তীতে তিনি খাস জমি ও ভূসম্পত্তি ক্রয় করেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আব্দুস সাত্তার ছিলেন তাঁর পিতামাতার একমাত্র পুত্র সন্তান। তাঁর পিতামাতা দুজনই ছিলেন সুশিক্ষিত। সন্তানের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তারা দুজনেই ছিলেন সদা সচেতন। সন্তানদের পড়াশুনার তাগিদে তাঁরা জলপাইগুড়িতে একটি বাড়ি তৈরি করে দেন। আব্দুস সাত্তার মির্জাপুর এম.ই. স্কুল থেকে পাস করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে ভর্তি হন। তিনি ১৮৯৯ সালে জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করেন। এই কৃতিত্বের জন্য মির্জা আব্দুস সাত্তারকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। আজও জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের রেকর্ড বই-এ মির্জা আব্দুস সাত্তার এবং তাঁর দুই সন্তান আব্দুল লতিফ ও আব্দুর রবের নাম গৌরবের সাথে লেখা রয়েছে। জনাব সাত্তার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বি.এ.পাস করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি লাভ করেন।

পরবর্তী দুই বছর আব্দুস সাত্তার কলকাতার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং ১৯০৫ সালে জলপাইগুড়ি ফিরে এসে আইনজীবীর পেশায় মনোনিবেশ করেন। জনাব সাত্তার প্রথম চা উৎপাদনকারী মুসলিম পরিবারের কন্যা বিবি লতিফুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯১৯ সালে তিনি এককভাবে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় তেরাইএ মেরি ভিউ টি কোম্পানি লিমিটেড নামে তাঁর নিজস্ব চা বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি তেরাই, আলীগড় ডুয়ার্স ও আসাম অঞ্চলের আরও ৭ টি চা বাগানের পরিচালক ছিলেন।

মির্জা আব্দুস সাত্তার ১৯২০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং এই পদে তিনি  ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত  অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই সময়কালে জনাব সাত্তার জলপাইগুড়ি শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পরিকল্পিত পানির সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৩৫-৩৬ সালে জন সেবামূলক কাজের জন্য তাঁকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৩৬ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটে পরাজিত হন।

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাগের পর তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনীর জন্য জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যালিটি হলে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। যা আজও জলপাইগুড়িতে রক্ষিত আছে। খান বাহাদুর আব্দুস সাত্তার ১৯৪৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ৬২ বছর বয়সে জলপাইগুড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উনাকে পঞ্চগড়ের মির্জাপুরে শায়িত করা হয়। তাঁর ৫ পুত্র ও দুই কন্যা। তাঁরা হলেন আব্দুল লতিফ, আব্দুর রব, লতিফুর রহমান, আব্দুর রকিব, মির্জা আব্দুস সামাদ, বেগম আলতাফুন্নেসা ও জোহরা খাতুন।

…আরো পড়ুন পঞ্চগড়ের অন্যান্য স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ


তথ্যসূত্রঃ টি. জিনাত লতিফ
Last updated: 1 May 2024

Share:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

খান বাহাদুর আব্দুস সাত্তার
(১৮৮৪-১৯৪৬)

  • রাজনীতিবিদ
  • আইনজ্ঞ
  • সমাজসেবক
  • খান বাহাদুর উপাধিপ্রাপ্ত
  • জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যালিটি চেয়ারম্যান